আন্তর্জাতিক বাজারে গত সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি ছাড়া অন্যান্য খাতের কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার প্রত্যাশার তুলনায় কমেছে। এছাড়া দেশটির আর্থিক খাতের অন্যান্য নীতি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে, যা বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এ সময় স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিন শুক্রবার স্বর্ণের দাম বেড়েছে দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য পৌঁছেছে ৪ হাজার ৪৯৬ ডলার ৯ সেন্টে। গত ২৬ ডিসেম্বর স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি রেকর্ড ৪ হাজার ৫৪৯ ডলার ৭১ সেন্টে পৌঁছেছিল। এছাড়া গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ ডলার ৯০ সেন্টে পৌঁছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বরে কৃষি ছাড়া অন্যান্য খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ৫০ হাজার। এর আগে অর্থনীতিবিদরা ৬০ হাজার কর্মসংস্থান বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
টিডি সিকিউরিটিজের হেড অব গ্লোবাল কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বার্ট মেলেক বলেন, ‘গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান খুব বেশি বাড়েনি। এছাড়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সম্ভাবনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে।’
এদিকে বিশ্লেষক সংস্থা মেটাল ফোকাস ২০২৬ সালে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলার ছাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
স্পট মার্কেটে গত শুক্রবার রুপার দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৭৯ ডলার ৫৬ সেন্টে স্থির হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ধাতুটির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। গত শুক্রবার প্লাটিনামের দাম দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ২৮৪ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এ সময় প্যালাডিয়ামের আউন্সপ্রতি মূল্য পৌঁছেছে ১ হাজার ৮১৪ ডলার ৯৩ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
ব্যাংক অব আমেরিকা ২০২৬ সালে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের গড়মূল্য বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে সরবরাহ বিঘ্ন, বাজারে পণ্য সংকট এবং চীনের ক্রয়ের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।